ফিফার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ উয়েফা, বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত
নতুন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক | তৃণমূল ২৪ | প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে এই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ফিফা জানায়, তারা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানের কিছু শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হবে। ফিফার দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন পেলে আগামী চার বছরে ফুটবল উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।
তবে উয়েফা এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কখনোই করা উচিত নয়।’
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ও স্কাই স্পোর্টস নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ চলতি সপ্তাহে জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসবে। সেখানে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ, এমনকি প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
এর আগে ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। সে সময়ও উয়েফার তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়। এটি সেই মানুষদের, যারা প্রতি সপ্তাহে মাঠে গিয়ে নিজেদের দলকে সমর্থন করেন।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনাকে ঘিরে দুই সংস্থার মধ্যে সেই বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



